অন্ন, বস্ত্র ও আশ্রয় দিচ্ছে কৃষি। আর সেই সাথে দিচ্ছে নানান রকমের রোগ! বিবর্তনের ধারায় মানুষের সাথে পশু-পাখির মেলামেশার সুযোগে সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই ভোগ করতে হচ্ছে মানব জাতিকে। কেমন করে তা হলো?
খাবার সংগ্রহ থেকে কৃষিকাজে রূপান্তর মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই চাপকে (selection pressure) প্রতিনিধিত্ব করে। প্রায় ২,০০,০০০ বছরের শিকারী-সংগ্রাহক জীবন আমাদের মৌলিক জীববিদ্যাকে একটি কাঠামো দিয়েছে। তবে বিগত ১০,০০০ বছরের কৃষি আমাদের বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে। ফলে আমাদের শরীর নতুন খাদ্যাভ্যাস, উচ্চ জনবহুল স্থানে বসবাস এবং নতুন রোগের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শিখেছে।
প্রাচীন মানবের ডিএনএ নিয়ে গবেষণা থেকে দেখা যায় যে, বিগত ১০,০০০ বছরে মানুষের বিবর্তন ত্বরান্বিত হয়েছে। প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে শত শত জিনের প্রকারভেদ বিকশিত হয়েছে। তবে বর্তমান কৃষি শুধুমাত্র খাবারের উৎস নয়, বহু সংক্রামক রোগেরও উৎস। আসুন আরো একটু বেশি জানতে চেষ্টা করি কেমন করে কৃষিকাজ মানব বিবর্তনকে প্রবাবিত করেছে।
মানব বিবর্তনে কৃষির ভূমিকা
কৃষি শুধু আমাদের খাদ্যাভ্যাসই পরিবর্তন করেনি; এটি আমাদের ডিএনএ-ও পরিবর্তন করেছে। মানুষ যখন পশ্চিম ইউরেশিয়ায় বসতি স্থাপন করে, তখন বেশ কয়েকটি সুবিধাজনক উত্থান ঘটে:
ল্যাকটেজ এনজাইমের স্থায়িত্ব
ল্যাকটেজ পারসিস্টেন্স হলো প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেও ল্যাকটেজ নামক এনজাইমের উৎপাদন অব্যাহত থাকা। এটি ল্যাকটোজ (দুধের চিনি) হজমে সাহায্য করে। মানব জিন বিবর্তনের এমন ঘটনাটি ঘটে প্রায় ৭,৫০০–১০,০০০ বছর আগে যখন দুগ্ধ খামার প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুধ খেয়ে সহ্য করার ক্ষমতা আছে ইউরোপীয়, কিছু আফ্রিকান, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে। অন্যরা মূলত ল্যাকটোজ সহ্য করতে পারে না।
মানুষ যখন গবাদি পশুকে গৃহপালিত করে তখন LCT জিনের মিউটেশন প্রাপ্তবয়স্কদের দুধ হজম করার ক্ষমতা প্রদান করে। ফসলহানির সময় বেঁচে থাকার জন্য এটি একটি বিশাল সুবিধা প্রদান করেছিল।
শ্বেতসার হজম
কৃষকরা দানা শস্যের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। বিবর্তন সেইসব জীবকে সুবিধা দিয়েছে যাদের মধ্যে AMY1 জিনের একাধিক অনুলিপি রয়েছে। এই জিন জটিল শর্করা ভাঙার জন্য অধিক পরিমাণে লালা অ্যামাইলেজ তৈরি করে।
একদল গবেষক মনে করেন যে, AMY1 জিনের একাধিক অনুলিপি তৈরির প্রাথমিক ঘটনাটি কৃষিভিত্তিক রূপান্তরের অনেক আগে হয়েছিল। তারা মনে করেন যে, এটি সম্ভবত মানুষ ও নিয়ান্ডারথালের বিভাজনেরও আগে ঘটেছিল (বিস্তারিত জানতে Yilmaz et al., 2024 এর প্রবন্ধটি পড়তে পারেন)। অধিকন্তু, কৃষিভিত্তিক সমাজে AMY1 জিনের অনুলিপির গড় সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক মানব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১ থেকে >১৫ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ত্বকের রঙ বিবর্তন
কৃষকরা যখন উত্তর ইউরোপে চলে আসে তখন তাদের সংগৃহীত খাদ্যে (যেমন তৈলাক্ত মাছ) ভিটামিন ডি-এর অভাব ছিল। কম সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি সংশ্লেষণকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেয়ার জন্য প্রাকৃতিক নির্বাচন (SLC24A5-এর মতো জিনের মাধ্যমে) ফর্সা ত্বক সৃষ্টির পক্ষে কাজ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে অভিবাসী হওয়া কৃষকরা (আনাতোলীয় কৃষক) যারা কৃষিভিত্তিক জীবনধারা গ্রহণ করেছিল তারা প্রধানত দুটি বিরূপ পরিবেশের সম্মুখীন হয়েছিল: (১) ভিটামিন ডি গ্রহণের পরিমাণ হ্রাস এবং (২) সূর্যালোকের কম তীব্রতা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতিযোগিতা
গবাদি পশুর সান্নিধ্যে এবং ঘনবসতিপূর্ণ স্থায়ী বসতিতে বসবাস জুনোটিক রোগের (পশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত রোগ) কেন্দ্রস্থল তৈরি করেছে। মানুষ যে সমস্ত সংক্রামক রাগে ভোগে তার প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ জুনোটিক এবং নতুন শনাক্ত হওয়া রোগগুলোর শতকরা ৭৫ ভাগেরও বেশি পশু পাখির উৎস থেকে উৎপন্ন। এর মূল কারণ হলো পশু ও মানুষের মাঝে নিবিড় মিথস্ক্রিয়া।
পশু-পাখি বাহিত সংক্রাম রোগের সম্পর্ক (Magouras et al. 2020 থেকে সংগৃহীত)
দিকনির্দেশক নির্বাচন
HLA (হিউম্যান লিউকোসাইট অ্যান্টিজেন) সিস্টেম সম্পর্কিত জিনগুলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে রোগজীবাণু শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এ ধরনের জিনের উদ্ভব হয়েছে দ্রুত বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এইচএলএ অঞ্চলটি ৬ নম্বর ক্রোমোজোমে অবস্থিত। এটি মানব জিনোমের সবচেয়ে পলিমরফিক অংশ। যারা গুটিবসন্ত, যক্ষ্মা এবং প্লেগ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তারা এই শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ভ্যারিয়েন্টগুলো পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত করেছেন।
এইচএলএ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নির্দিষ্ট কিছু এইচএলএ টাইপ রোগের তীব্রতা, চিকিৎসার সুফল অথবা এইচআইভি, কুষ্ঠ এবং হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের মতো বিশেষ সংক্রমণের ঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত। তাই এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিময়
বিশ্বের অনেক অংশে অটোইমিউনিটি এবং অটোইমিউন রোগ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মূল কারণ সম্ভবত আমরা যে পরিবেশে বাস করছি তা দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। অটোইমিউন রোগের এই ক্রমবর্ধমান বিস্তারকে ব্যাপকভাবে একটি বহুমুখী সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জিনগত প্রবণতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- যা একসময় বেঁচে থাকার জন্য উপকারী ছিল তা এখনকার আধুনিক জীবাণুমুক্ত পরিবেশে ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।
আমরা কোথা থেকে এসেছি? (মহাকাশ বনাম পৃথিবী বিতর্ক)
ধর্ম ও বিজ্ঞান দুটি আলাদা বিষয়। তাই সেভাবেই আমরা বিচার বিশ্লেষন করবো। বৈজ্ঞানিকভাবে মানুষ শতভাগ স্থলচর এবং মানুষের উৎপত্তি আফ্রিকায়। বিবর্তন নামক একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদিম হোমিনিনদের মধ্যে বড় মস্তিষ্ক এবং উন্নত সরঞ্জামের মতো বৈশিষ্ট্য বিকশিত হয়েছিল। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ আফ্রিকা থেকে অভিবাসন করে এশিয়া, ইউরোপ এবং আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
আফ্রিকা থেকে উদ্ভব মডেল
জিনোমিক তথ্য নিশ্চিত করে যে, হোমো স্যাপিয়েন্সের উদ্ভব আফ্রিকায় হয়েছিল। হোমো স্যাপিয়েন্সের প্রাচীনতম জ্ঞাত দেহাবশেষ মরক্কোর জেবেল ইরহুদে পাওয়া গেছে। আজকের প্রত্যেক অ-আফ্রিকান ব্যক্তি প্রায় ৬০,০০০ বছর আগে অভিবাসন করে আসা একটি ছোট গোষ্ঠীর বংশধর।
উল্লেখ্য যে, নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভান বৈশিষ্ট্য ইউরেশিয়ায় উদ্ভব হয়। অপরদিকে হোমো স্যাপিয়েন্স এর বৈশিষ্ট্য আফ্রিকায় উদ্ভব হয়। আফ্রিকা ও ইউরেশিয়া ততদিন বিচ্ছিন্ন ছিল যতদিন পর্যন্ত না হোমো স্যাপিয়েন্স ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্য দুটি (এবং সম্ভবত অন্য কোনো অজানা প্রাচীন প্রজাতির) সাথে আন্তঃপ্রজনন করে।
মহাকাশ তত্ত্ব (প্যানস্পার্মিয়া)
কিছু বিজ্ঞানী অনুমান করেন যে, জীবনের মূল উপাদান (অ্যামিনো অ্যাসিড) হয়তো কোটি কোটি বছর আগে উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছিল। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল উপাদান অ্যামিনো অ্যাসিড বেনু নামক একটি গ্রহাণু থেকে পাওয়া যায়, যার বয়স প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর। মহাকাশে সেই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছিল তা রহস্যে ঘেরা। তবে পেন স্টেট বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে যে, পৃথিবীর সৌরজগতের জন্মলগ্নে বরফ-ঠান্ডা, তেজস্ক্রিয় পরিবেশে এগুলোর উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে।
তবে প্রাইমেট থেকে মানুষের বিবর্তন একটি সুপ্রতিষ্ঠিত পার্থিব প্রক্রিয়া, যার প্রমাণ জীবাশ্মের রেকর্ড এবং ডিএনএ সিকোয়েন্সিং-এর মাধ্যমে পাওয়া যায়। প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন Van Wieren et al, ২০২১ এর প্রবন্ধ)।
বৈচিত্র্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বনাম ধর্মীয় বিশ্বাস
জিনগত বৈচিত্র্য মিউটেশন, প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং জেনেটিক ড্রিফটের মাধ্যমে উদ্ভব হয়েছে।
বৈচিত্র্য কোন জাতি নয়
বিজ্ঞান মানব জাতিকে সামাজিক ধারণা হিসেবে দেখে। জিনগতভাবে মানুষ ৯৯.৯% অভিন্ন। প্রায় ০.১% বৈচিত্র্য ব্যক্তিগত পার্থক্যের জন্য দায়ী এবং এই বৈচিত্র্যকে সবচেয়ে ভালোভাবে বর্ণনা করা যায় ভৌগোলিক গ্রেডিয়েন্ট হিসেবে। বেশিরভাগ বৈচিত্র্যই ক্লাইনাল (ক্রমিক)। যেমন- অতিবেগুনী রশ্মি থেকে সুরক্ষা এবং ভিটামিন ডি-এর চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিষুবরেখা থেকে দূরে সরে যাওয়ার সাথে সাথে ত্বকের রং ধীরে ধীরে ফর্সা হওয়া।
ধর্মীয় মতভেদ
বিজ্ঞান যেখানে জিনোমিক্স ব্যবহার করে আফ্রিকায় আমাদের পূর্বপুরুষদের সন্ধান করে, সেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো আমাদের অস্তিত্বের পেছনের আখ্যানমূলক অর্থ প্রদান করে। বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৪,০০০ থেকে ১০,০০০-এরও বেশি স্বতন্ত্র ধর্ম এবং ধর্মীয় গোষ্ঠী রয়েছে। এখানে মাত্র চারটি নিয়ে সামান্য আলোচনা করা হলো। খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম মানব মর্যাদা এবং ঐশ্বরিক জবাবদিহিতার একটি রৈখিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। হিন্দুধর্ম মহাজাগতিক আন্তঃসংযোগ এবং অসীম সময়ের একটি দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে এবং বৌদ্ধধর্ম আকাঙ্ক্ষা কীভাবে শারীরিক রূপে প্রকাশিত হয় তার একটি মনস্তাত্ত্বিক যাত্রার প্রস্তাব দেয়।
এই আখ্যানগুলোর মূল্য জীববিজ্ঞানের সাথে তাদের আক্ষরিক প্রতিযোগিতায় নয়, বরং মানব অস্তিত্বের কেন-এর উত্তর দেওয়ার ক্ষমতায় নিহিত থাকবে—যা আমাদের একে অপরের সাথে আচরণ, মহাবিশ্বে আমাদের স্থানকে দেখা এবং আমাদের চূড়ান্ত পরিণতির রহস্যের মুখোমুখি হওয়ার পদ্ধতিকে পথ দেখাবে।
হিন্দুধর্ম: মহাজাগতিক বলিদান এবং শাশ্বত চক্র
হিন্দুধর্ম অনুসারে মানবজাতির উৎপত্তি একটি ঐশ্বরিক সৃষ্টি। প্রথম মানব হলেন মনু ও শতরূপা, যাঁদের ভগবান ব্রহ্মা পৃথিবীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সৃষ্টি করেছিলেন। হিন্দুধর্ম সৃষ্টির একটি চক্রাকার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে; যেখানে প্রতিটি মহাজাগতিক চক্রের (কল্প) শুরুতে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার কাছ থেকে ঐশ্বরিক উদ্ভব বা প্রত্যক্ষ প্রকাশের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবজাতির সৃষ্টি হয়। তবে আরো মতভেদ আছে।
খ্রিস্টধর্ম: ঐশ্বরিক প্রতিমূর্তি এবং উদ্যান
খ্রিস্টধর্ম অনুসারে মানুষকে ঈশ্বর বিশেষভাবে তাঁর নিজের প্রতিমূর্তি ও সাদৃশ্যে সৃষ্টি করেছেন, যার মধ্যে শারীরিক (ধূলি) এবং আধ্যাত্মিক (আত্মা) উভয় মাত্রাই বিদ্যমান। প্রথম পুরুষ আদম এবং প্রথম নারী ইভ থেকে উদ্ভব মানবজাতিকে পৃথিবীর তত্ত্বাবধান এবং ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক রেখে অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে- আক্ষরিক ছয় দিনের সৃষ্টিবাদ থেকে শুরু করে ঈশ্বরবাদী বিবর্তনবাদ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত।
ইসলাম: পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি
ইসলাম অনুসারে মানবজাতির উৎপত্তি অন্য কোনো প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়ে নয় বরং আল্লাহ কর্তৃক আদম (আঃ)-কে মাটি থেকে বিশেষ সৃষ্টির মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। আদমকে প্রথম মানব এবং হাওয়াকে প্রথম নারী হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসলাম শিক্ষা দেয় যে, আদমকে সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করা হলেও পরবর্তী সকল মানুষ প্রাকৃতিক জৈবিক প্রজননের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে।
বৌদ্ধধর্ম: বাসনা ও সহ-উৎপত্তির মাধ্যমে বিবর্তন
বৌদ্ধধর্ম অনুসারে মানুষের কোনো একক প্রথম সৃষ্টি কোনো দেবতার দ্বারা হয়নি; বরং বর্তমান মহাজাগতিক চক্রের (কল্প) শুরুতে বাসনা ও কর্ম দ্বারা চালিত হয়ে জ্যোতির্ময় সত্তা থেকে অধঃপতনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের উৎপত্তি হয়েছিল। এর বিস্তারিত বিবরণ পালি ত্রিপিটকের Aggañña সুত্তে (ডিএন ২৭) পাওয়া যায়, যেখানে বর্ণনা করা হয়েছে যে মানুষ উচ্চতর জগতের সত্তা থেকে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং অবশেষে নশ্বর দেহ ধারণ করে ।
সংক্ষেপে চারটি ধর্মের মূল চেতনা
উপসংহার
মানব বিবর্তন কোনো সমাপ্ত অধ্যায় নয় বরং আমাদের জিন এবং পরিবেশের মধ্যে এক চলমান সংলাপ। কৃষিকাজের সূচনা একটি জিনোমিক বিপ্লব শুরু করেছিল, যা শস্য ও জীবাণুর জগতে টিকে থাকার জন্য আমাদের বিপাকক্রিয়া, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিয়েছে।
যদিও আমাদের আফ্রিকান পূর্বপুরুষ রয়েছে তথাপি দুধ সহনশীলতা থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় বা যে সূক্ষ্ম বৈচিত্র্যগুলো দেখি সেগুলো হলো আমাদের পূর্বপুরুষদের টিকে থাকার ক্ষতচিহ্ন এবং পদক বা উপহার মাত্র।
আমরা মহাকাশ থেকে আসা আগন্তুক নই বরং পৃথিবীর নিরলস নির্বাচনী চাপের এক পরিমার্জিত ফল। এটা প্রমাণ করে যে, আমাদের সংস্কৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের জীববিদ্যাও পরিবর্তিত হয়। তবে ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়- যুক্তি নয় বরং পুর্ণ আত্মসমর্পন।