প্রাপ্তবয়স্ক মথ খায় না: ক্ষুধা ছাড়া সৌন্দর্য

Category: Climate Change & Environment | Tags: No tags

Author: Jatish Chandra Biswas | Published on: December 16, 2025, 12:03 a.m.


যখন খাওয়ার চেয়ে প্রজনন মুখ্য

পোকামাকড়ের জগতে খাওয়া হলো বেঁচে থাকার প্রথম শর্ত। তবুও প্রকৃতি ব্যতিক্রম পছন্দ করে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো প্রাপ্তবয়স্ক মথ যারা একেবারেই খায় না। এই মথগুলি তাদের কোকুন থেকে যখন সম্পূর্ণরূপে গঠিত অবস্থায় বের হয়ে আসে তখন তারা জৈবিকভাবে একটি একক লক্ষ্যের জন্য প্রোগ্রাম করা অবস্থায় থাকে: শুধু প্রজনন, কোন কিছু খাওয়া নয়

যখন ক্ষুধার অনভূতি ছাড়াই প্রাপ্তবয়স্কতা বিকশিত হয়, তখন তা একটি অসাধারণ বিবর্তনীয় কৌশল। অনানুষ্ঠানিকভাবে এটি "ক্ষুধা ছাড়াই সৌন্দর্য" হিসাবে পরিচিত। এমন অবস্থায় প্রাণীদের বেঁচে থাকা আমাদের সহজাত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। আমরা কোতুহলি হই।

এই প্রবন্ধে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক মথ কেন খায় না, কীভাবে তারা খাবার ছাড়া বেঁচে থাকে এবং কেন তাদের অনেকেই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পোকামাকড়ের মধ্যে স্থান করে নেয়, তা অনুসন্ধান করা হয়েছে। আসলে এটি বিজ্ঞান, বাস্তুশাস্ত্র এবং বিস্ময়ের মিশ্রণ ঘটায়। 

অনাহারি (Non-feeding) প্রাপ্তবয়স্ক মথের ধারণা

প্রাপ্তবয়স্ক মথ যারা কোন খাবার খায় না, তারা কিন্তু দুর্ঘটনাক্রমে ক্ষুধার্ত থাকে না। বরং তাদের না খেয়ে থাকার পিছনের কারণ হলো গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় এবং বিবর্তনীয়

অনাহারি বলতে কী বোঝায়?

অনাহারি  প্রাপ্তবয়স্ক মথ সাধারণত নিম্নলিখিত কারনে খায় না বা খেতে পারে না:

  • প্রোবোসিসের অনুপস্থিত বা অকেজো
  • মুখের অংশ হ্রাসপ্রাপ্ত বা অকার্যকর
  • পরিপাকতন্ত্র নিষ্ক্রিয় বা অসম্পূর্ণ
  • প্রাপ্তবয়স্কদের আয়ুষ্কাল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত (এক দিন থেকে এক সপ্তাহ)

শুঁয়োপোকা পর্যায়ে সঞ্চিত পুষ্টির মজুদ থেকে তাদের শক্তির চাহিদা সম্পূর্ণরূপে পূরণ হয়।

বিবর্তন কেন খাওয়া বাদ দেবে?

প্রথমে খাওয়া ছেড়ে দেওয়া খারাপ বলে মনে হয়। তবে বিবর্তন দক্ষতার জন্য পুরস্কৃত হয়, আরামের জন্য নয়।

বিবর্তনীয় বিনিময়

অনাহারি প্রাপ্তবয়স্কদের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে:

শক্তি দক্ষতা

  • খাদ্যের অনুসন্ধানে শক্তি ব্যয় করতে হয় না
  • খাদ্য গ্রহণে সাহায্যকারি অঙ্গগুলি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয় না

শিকারের ঝুঁকি হ্রাস করা হয়

  • কম চলাচল
  • শিকারীদের নজরে আসার সম্ভবনা কম

সর্বাধিক প্রজনন বিনিয়োগ

     শক্তি পুনঃব্যবহৃত হয়:

  •  সাথীকে আকর্ষণে
  •  ফেরোমন উৎপাদন
  •  ডিমের বিকাশে

দ্রুত জীবনচক্রের সমাপ্তি

   মৌসুমী বা অস্থির পরিবেশে অপরিহার্য

ক্ষুধা হ্রাসের পিছনের শারীরস্থান

বিভিন্ন কারণে ক্ষুধাহীনতা দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো-

অনুপস্থিত প্রোবোসিস

প্রজাপতি বা অমৃত-খাওয়া মথের তুলনায়, অনেক অনাহারি মথের মধ্যে নিম্নলিখিত অঙ্গগুলির অভাব থাকে:

  • একটি কুণ্ডলীকৃত প্রোবোসিস
  • কার্যকরী ম্যান্ডিবল
  • লালা গ্রন্থি

হ্রাসপ্রাপ্ত পরিপাকতন্ত্র

  • মধ্যান্ত্র প্রায়শই অনুন্নত
  • এনজাইমেটিক কার্যকলাপ ন্যূনতম বা অনুপস্থিত
  • সঞ্চিত লিপিড এবং গ্লাইকোজেন প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্ত কার্যকারিতাকে জ্বালানি দেয়

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগের জীবন: শুঁয়োপোকার ভূমিকা

আমরা পৌরাণিক কাহিনী থেকে জানি যে, কোন কোন শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন অনেক কিছু শিখে ফেলে, খাবারের রুচি গঠিত হয়, ইত্যাদি। মথের ক্ষেত্রেও এরকম কিছু ঘটে। তা কী রকম?

শক্তি সঞ্চয়কারী শুঁয়োপোকা

অনাহারি মথের জন্য শুঁয়োপোকার পর্যায়ই সবকিছু। যেমন ধরুন শুঁয়োপোকা:

  • ক্রমাগত খাদ্য গ্রহণ করতে থাকে
  • জমা হয়:
    • লিপিড
    • প্রোটিন
    • কার্বোহাইড্রেট

এই উপাদানগুলি চর্বি হিসাবে দেহে সঞ্চিত হয়। এটাকে যকৃত এবং অ্যাডিপোজ টিস্যুর অনুরূপ একটি  অঙ্গ বলা যায়।

শক্তির পুনর্বণ্টনের জন্য রূপান্তর

পিউপেশনের সময়:

  • লার্ভা টিস্যু ভেঙে যায়
  • প্রাপ্তবয়স্কদের কাঠামো তৈরি হয়
  • সঞ্চিত পুষ্টিগুলি নিম্নলিখিত অঙ্গগুলি গঠনের জন্য ব্যবহৃত হয়:
    • ডানার বিকাশ
    • প্রজনন অঙ্গ
    • পেশী গঠন

দীর্ঘায়ুর চেয়ে প্রজনন বেশি প্রয়োজনীয়

নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাওয়া এক অলিখিত মহাকাব্য। সবাই তার সন্তান সন্ততির মাধ্যমে বেঁচে থাকতে চায়। তাইতো-

প্রাপ্তবয়স্ক মথের কেবল সঙ্গীর জন্যই বেঁচে থাকে

অনেক অনাহারি মথের ক্ষেত্রে:

  • প্রাপ্তবয়স্করা ৩-১০ দিন বেঁচে থাকে
  • প্রাথমিক আচরণের মধ্যে রয়েছে:
    • উড়া
    • সঙ্গম, এবং
    • ডিম পাড়া

যখন আয়ুষ্কাল এত কম তখন খেতে গিয়ে সময় নষ্ট করা অর্থহীন।

মহিলা বনাম পুরুষ মথের শক্তির ব্যবহার

দৃশ্যপট                     পুরুষ মথ                    মহিলা মথ
শক্তির মূল ব্যবহার     উড়া এবং সঙ্গী খুঁজা       ডিম পাড়া
জীবনকাল                 সংক্ষিপ্ত                        তুলনামূলকভাবে বেশি
খাওয়ার সক্ষমতা        নেই                              নেই
প্রজনন ফল              স্মার্ম সরবরাহ                শত শত ডিম তৈরি
 

সুন্দর সুন্দর মথ যারা কোন খাবার খায় না

অনেক অনহারি মথ রয়েছে। আমি কয়েকটি উদাহরণ এখানে দেখাচ্ছি।

লুনা মথ (Actias luna)

লুনা মথ দেখতে ফ্যাকাশে সবুজ। এরা উত্তর আমেরিকার বাসিন্দা। তাদের রয়েছে লম্বা, মনোরম লেজ এবং স্বচ্ছ ডানা। প্রাপ্তবয়স্কদের মুখের কার্যকারিতা নেই। ফলে তারা কোন খাবার খেতে পারে না। বরং শুঁয়োপোকা অবস্থায় সঞ্চিত শক্তির উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। 

প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে তাদের জীবনকাল সংক্ষিপ্ত- সাধারণত প্রায় এক সপ্তাহ। তাদের সকল কাজকর্ম প্রজননের উপর কেন্দ্রীভূত। লুনা মথ শুঁয়োপোকা হিকরি, আখরোট এবং বার্চের মতো পর্ণমোচী গাছের পাতা খায়। 

প্রাপ্তবয়স্করা নিশাচর এবং উষ্ণ বসন্ত এবং গ্রীষ্মকাল শুরুর রাতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। তাদের সৌন্দর্য আছে, তবে তারা অধরা। দিনের আলোতে এদেরকে খুব কমই দেখা যায়।

অ্যাটলাস মথ  (Attacus atlas)

অ্যাটলাস মথ পৃথিবীর বৃহত্তম মথগুলির মধ্যে একটি। এদের ডানার বিস্তার ২৫ সেন্টিমিটারেরও বেশি হতে পারে। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আদি বাসিন্দা। সাপের মাথার মতো ডানার ডগাগুলির দেখতে মন্দ নয়। এরকম হওয়ার কারণ সম্ভবত শিকারীদেরকে ধোঁকা দেয়া। 

প্রাপ্তবয়স্ক অ্যাটলাস মথ খায় না। অবশ্য খাওয়ার জন্য কোনও কার্যকরী প্রোবোসিসও নেই। এরা মাত্র ৫-৭ দিন বেঁচে থাকে। তাদের শুঁয়োপোকাগুলি বড়, ক্ষুধার্ত, লেবু এবং অন্যান্য গাছের পাতা খায়। মথের বিশাল আকার, লালচে-বাদামী রঙ এবং জটিল ডানার ধরণ এটিকে বিশাল রেশম মথের মধ্যে একটি আইকন করে তোলে।

পলিফেমাস মথ (Antheraea polyphemus)

পলিফেমাস মথ হলো উত্তর আমেরিকার একটি বৃহৎ রেশম মথ। এর নামকরণ করা হয়েছে গ্রীক পৌরাণিক কাহিনীর একচোখা দৈত্যের নামে। এদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো পিছনের ডানায় বিশাল চোখের উপস্থিতি যা শিকারীদের ভয় দেখাতে সাহায্য করে।

ডানাগুলিতে আছে সূক্ষ্ম নকশা এবং দেখতে তামাটে ও বাদামী রঙের। শুঁয়োপোকা উজ্জ্বল সবুজ রঙের হয় এবং ওক, বার্চ, ম্যাপেল এবং অন্যান্য গাছের পাতা খায়। প্রাপ্তবয়স্করা মাত্র কয়েক দিন বেঁচে থাকে । যে অল্প কয়দিন তারা বাঁচে সেই সময়টুকু শুধুমাত্র যৌন ক্রিয়ার উপর মনোযোগ দেয়।

ধূমকেতু মথ (Argema mittrei)

আমরা জানি ধূমকেতুর বিশাল লেজ আছে। ঠিক তেমনি এক ধরনের মথ মাদাগাস্কারে দেখতে পাওয়া যায়। এদেরকে বলা হয় ধূমকেতু মথ। পুরুষ মথগুলি ডানা অনেক লম্বা ঠিক যেন দেখতে লেজের মতো। ডানার দৈর্ঘ্য শরীরের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি।

মথটি ফ্যাকাশে সবুজ রঙের এবং প্রতিটি ডানায় চোখের মতো দাগ আছে। প্রাপ্তবয়স্কদের কোন মুখ নেই। তাই কোন খাবার খেতে পারে না। যে কয়দিন বাঁচে সেই কয়দিন বংশ রক্ষার কাজে ব্যয় করে।  শুঁয়োপোকা স্থানীয় গাছের পাতা খায়। বাসস্থান হ্রাসের কারণে এদেরকে বন্দী অবস্থায় প্রজনন করানো হয়।

সারকোপিয়া মথ (Hyalophora cecropia)

সারকোপিয়া মথ উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম মথ। তারা গাঢ় লাল, সাদা এবং কালো ডানার বৈশিষ্টের জন্য প্রশংসিত। প্রাপ্তবয়স্করা বসন্তকালের শেষের দিকে আবির্ভূত হয়। অকার্যকর মুখের অংশের কারণে এরা খাবার খায় না। তাদের প্রাপ্তবয়স্ক জীবনকাল প্রায় এক থেকে দুই সপ্তাহ।

এই মথগুলি সঙ্গম এবং ডিম পাড়ার জন্য নিবেদিত। শুঁয়োপোকা ম্যাপেল, চেরি এবং বার্চ সহ নানান রকমের পোষক উদ্ভিদ খায়। মথগুলি নিশাচর এবং প্রায়শই আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিছু কিছু অঞ্চলে এদের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

আইও মথ (Automeris io)

আইও মথ হলো মাঝারি আকারের একটি রেশম মথ। তাদের পিছনের ডানায় চোখের আকৃতির দাগ রয়েছে যা শিকারীদের তাড়াতে সাহায্য করে। পুরুষ মথ উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের। তবে স্ত্রী মথগুলি অধিকতর বাদামী রঙের। প্রাপ্তবয়স্ক মথগুলি খায় না এবং প্রায় এক সপ্তাহ বেঁচে থাকে। 

তাদের শুঁয়োপোকা উজ্জ্বল সবুজ রঙের এবং বিষাক্ত কাঁটা দিয়ে ঢাকা। এদেরকে ধরতে গেলে যন্ত্রণাদায়ক হুল ফুটায়। আইও মথগুলি উত্তর আমেরিকার বেশিরভাগ বন, বাগান এবং ঝোপঝাড় অঞ্চলে পাওয়া যায়। প্রাপ্তবয়স্করা নিশাচর এবং মিলনের জন্য দৃশ্যমান সংকেত এবং ফেরোমনের উপর নির্ভর করে।

সম্রাট মথ (Saturnia pavonia)

সম্রাট মথ হলো ইউরোপীয় মহাদেশের রেশম মথের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের অধিকারি এমন একটি মথ  যা চারটি ডানায় রঙিন চোখের আকৃতি রয়েছে। অন্যান্য মথের তুলনায় এদের পুরুষ মথগুলি দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে এবং সহজেই চোখে পড়ে। প্রাপ্তবয়স্ক সম্রাট মথগুলি খায় না এবং প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

তাদের শুঁয়োপোকাগুলি হিদার, ব্র্যাম্বল এবং হাথর্নের মতো নিচু ঝোপঝাড়ের পাতা-ডগা খায়। প্রজাতিটি শীতল জলবায়ুর সাথে ভালভাবে খাপ খায় এবং এদেরকে তৃণভূমি, হিথল্যান্ড এবং খোলা বনভূমিতে দেখতে পাওয়া যায়। এদের শক্তিশালী যৌন দ্বিরূপতা এদেরকে কীটতত্ত্ববিদদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে।

ওক রেশম মথ (Antheraea pernyi)

চীনের বাসিন্দা ওক রেশম মথ একটি বৃহৎ এবং শক্তিশালী মথ যা ওক গাছের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এর শুঁয়োপোকা মূলত ওক পাতা খায় এবং তুসার রেশম উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। প্রাপ্তবয়স্ক মথের রয়েছে বাদামী রঙের ডানা, যাতে আছে চোখের আকৃতির ছোপ।

অন্যান্য বড় রেশম মথের মতো তাদের মুখের কার্যক্ষমতা থাকে না। প্রাপ্তবয়স্করা প্রায় ৭-১০ দিন বেঁচে থাকে সঞ্চিত শক্তির উপর নির্ভর করে। ওক রেশম মথের পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং রেশম উৎপাদনের জন্য এটি ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন এবং চাষাবাদ করা হয়েছে।

রথশিল্ডিয়া অরোটা (Rothschildia aurota)

রথশিল্ডিয়া অরোটা হল একটি বৃহৎ, রঙিন রেশম পতঙ্গ যা মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে পাওয়া যায়। এর লালচে-বাদামী ডানা, স্বচ্ছ অঞ্চল এবং ফ্যাকাশে ব্যান্ড রয়েছে যা এটিকে একটি বিশেষ ধরনের চেহারা দেয়।

অন্যান্য বড় রেশম পতঙ্গের মতো প্রাপ্তবয়স্করা খাবার খায় না এবং সঞ্চিত শক্তির উপর নির্ভর করে অল্প কয়েকদিন বেঁচে থাকে। শুঁয়োপোকাগুলি শক্তিশালী এবং গাছ এবং গুল্ম সহ বিভিন্ন ধরণের পোষক উদ্ভিদের পাতা খায়। এই প্রজাতিটি মূলত নিশাচর এবং রাতে আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়।

গার্ডেন জায়ান্ট মথ (Saturnia pyri)

গার্ডেন জায়ান্ট মথ, যাকে বৃহৎ ময়ুর মথও বলা হয়। ডানার বিস্তারের বিবেচনায় এরা ইউরোপে দেখতে পাওয়া সবচেয়ে বড় মথ। এর ধূসর-বাদামী ডানায় চোখ-সদৃশ আকৃতি রয়েছে, যা শিকারীদের তাড়াতে সাহায্য করে।

এই নিশাচর মথ ফলের বাগান, বাগান এবং বনাঞ্চলে বাস করে। প্রাপ্তবয়স্করা কোন খাবার খায় না। শুঁয়াপোকা অবস্থায় সঞ্চিত শক্তির উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। শুঁয়াপোকাগুলো বড়, সবুজ এবং নীল রঙের গুটায় ঢাকা এবং প্রধানত নাশপাতি, আপেল এবং বরইয়ের মতো গাছের পাতা খায়।

অনাহারি মথের পরিবেশগত তাৎপর্য

ক্ষুধার্তের কাছে পৃথিবী গদ্যময় হলেও অল্প কয়েকদিন বেঁচে থাকা সুন্দর মথগুলি আমদের কল্যাণে কাজ করে থাকে। যেমন-

বাস্তুতন্ত্রে ভূমিকা

তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনকাল সত্ত্বেও, অনাহারি মথগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:

  • পাখি এবং বাদুড়ের জন্য শিকার প্রজাতি
  • পরাগায়ন (সীমিত বা পরোক্ষ)
  • উদ্ভিদ থেকে উচ্চতর ট্রফিক স্তরে পুষ্টির স্থানান্তর

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ

প্রাপ্তবয়স্কদের স্বল্প আয়ুষ্কাল সাহায্য করে:

  • অতিরিক্ত জনসংখ্যা রোধ
  • প্রজনন ঋতু সমন্বয়
  • বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখা

সৌন্দর্য প্রজননের একটি হাতিয়ার

প্রকৃতির একটি অলিখিত নিয়ম হলো- আগে রূপধারি পরে গুণ বিচারি। ব্যতিক্রম ছাড়া সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। অন্যান্য প্রাণীরাও কী রূপে মুগ্ধ হয়?

কেন অনাহারি মথ এত সুন্দর?

খাবার খাওয়ার কাঠামো ছাড়াই, বিবর্তনীয় চাপ অনুকূল:

  • ছড়িয়ে যাওয়ার জন্য বড় ডানা
  • উজ্জ্বল রঙ, যা সাহায্য করে-
    • প্রজাতি সনাক্তকরণ
    • শিকারী প্রতিরোধ
  • চোখের দাগ এবং লেজ:
    • শিকারীদেরকে বিভ্রান্ত করা
    • সঙ্গীর আকর্ষণ বৃদ্ধি

সৌন্দর্য অসার নয় - এটি কার্যকারিতা

মানুষের আকর্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক মূল্য

মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। প্রথিবীর তাবৎ প্রাণী মানুষের কী কাজে লাগতে পারে তা বেব করার জন্য ব্যাকুল। তাইতো মানুষ সব কিছু জানতে চায়। কিন্তু সব কিছু কি জানা যায়!

অনাহারি মথ আমাদের কী শেখায়?

এই মথগুলি নিম্নলিখিত অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে:

  • জীববিজ্ঞানে শক্তি বাজেট
  • বিবর্তনীয় বিনিময়
  • জীবন-ইতিহাসের কৌশল
  • ন্যূনতম বেঁচে থাকার মডেল

এগুলি আরো অনুপ্রাণিত করে:

  • জৈব-অনুকরণ গবেষণা
  • শিক্ষামূলক জীববিজ্ঞান
  • সংরক্ষণ সচেতনতা

সংরক্ষণ উদ্বেগ

মানুষের বিলাসবহুল জীবনাচার পরিবেশের উপর বিরোপ প্রভাব ফেলছে। প্রয়োজনীয়  এবং অপ্রয়োজনীয় কার্যকলাপের মধ্যে সমন্বয় না হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে।

অনাহারি প্রজাতির ঝুঁকিপূর্ণতা

প্রাপ্তবয়স্ক মথ শোঁয়াপোকার পুষ্টির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা সকল চাহিদা পূরণ করতে পারে না। তবে তা আরো বিশেষভাবে ক্ষতিকর যখন-

  • পোষক উদ্ভিদের প্রাপ্যতা হ্রাস পায়
  • বাসস্থান ধ্বংস
  • জলবায়ু পরিবর্তন সময় এবং উত্থান ব্যাহত করে

শুঁয়োপোকার আবাসস্থল রক্ষা করা তাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

উপসংহার: সংক্ষিপ্ত জীবনযাপন, উজ্জ্বলভাবে জীবনযাপন

প্রাপ্তবয়স্ক মথ যারা খায় না তাদের গল্প বঞ্চনার নয়, বরং বিবর্তনীয় সৌন্দর্যের। এই মথগুলি প্রমাণ করে যে, বেঁচে থাকা সবসময় সঞ্চয়ের উপর নির্ভর করে না- এটি নির্ভুলতা, সময় এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কেও হতে পারে।

জীবনের প্রাথমিক স্তরে বৃদ্ধি এবং প্রজননের সময় সবকিছু বিনিয়োগ করে অনাহারি মথ ক্ষুধাকে অস্বীকার এবং সাফল্যকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে। তাদের সংক্ষিপ্ত প্রাপ্তবয়স্ক জীবন সৌন্দর্যে উজ্জ্বল হয় এবং আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, দীর্ঘায়ু জীবনের সাফল্যের একমাত্র পরিমাপ নয়

FAQs

কিছু প্রাপ্তবয়স্ক মথ কেন একেবারেই খায় না?

কারণ তাদের মুখের অংশের কার্যকারিতা থাকে না এবং শুঁয়োপোকা পর্যায়ে সঞ্চিত শক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে।

অনাহারি প্রাপ্তবয়স্ক মথ কতদিন বাঁচে?

প্রজাতি এবং পরিবেশগত অবস্থার উপর নির্ভর করে বেশিরভাগই ৩ থেকে ১০ দিনের মতো বেঁচে থাকে।

অনাহারি পতঙ্গ কি বিরল?

না। পুরো পরিবার, বিশেষ করে Saturniidae, বেশিরভাগই অনাহারি প্রজাতি নিয়ে গঠিত।

অনাহারি পতঙ্গ কি ফুলের পরাগায়ন করে?

সাধারণত না, যদিও উড়ানের সময় তারা ঘটনাক্রমে ফুলের সংস্পর্শে আসতে পারে।

খাবার না খাওয়া পতঙ্গ কি খাবার দিলে বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারে?

না। মুখের অংশ বা হজমের কার্যকারিতা ছাড়া খাওয়ানো অসম্ভব।