পাখিরা প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর উপহারগুলোর মধ্যে একটি। তাদের রঙিন পালক, মিষ্টি কণ্ঠ ও অদ্ভুত কৌশলে ভ্রমণ আমাদেরকে মুগ্ধ করে। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিভিন্ন রঙে রাঙানো, যেমন লাল, নীল, সবুজ, হলুদ এবং গোলাপি। তারা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তোলে এবং পরিবেশের জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে।
পাখিরা কেবল চোখের জন্য নয়, তাদের গানও মনকে আনন্দ দেয়। তাদের রঙিন উপস্থিতি আমাদের প্রকৃতির অসাধারণ রঙিন দুনিয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পাখির প্রতি আমাদের মনোযোগ ও যত্নের মাধ্যমে আমরা প্রকৃতির এই অপূর্ব উপহারকে রক্ষা করতে পারি।
আসুন আমরা কয়েকটি পাখির বৈশিষ্ট জানতে চেষ্টা করি- এরা কোথায় থাকে, কী খায়? আমাদের কী করতে হবে তাদেকে বাঁচাতে?
Great Horned Owls
গ্রেট হর্নড পেঁচা (Great Horned Owl) বা শিং ওয়ালা পেঁচা আমেরিকায় পাওয়া যায়। কানের মতো টাফ্ট আছে। এটা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বরে গল্পের বইয়ের সেরা পেঁচা হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
গ্রেট হর্ন্ড পেঁচা (Great Horned Owl) এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ থেকে ২৫ ইঞ্চি হয় এবং ওজন ২ থেকে ৫.৫ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। এর মাথায় দুটো বিশাল শিংয়ের মতো শুঁড় থাকে, যা তাকে বিশেষভাবে চিনতে সাহায্য করে।
শিং ওয়ালা পেঁচা একটি আক্রমণাত্মক শিকারী পাখি। কখনো কখনো "বাঘ পেঁচা" বলে ডাকা হয়। যেন বাঘর মাসি বিড়ালের মতো! এরা চৌকস শিকারীঠিক। বিভিন্ন রকমের প্রাণী এবং অন্যান্য পাখি শিকার করে।
গ্রেট হর্নড আউল মরুভূমি এবং জলাভূমি থেকে শুরু করে বন এবং শহরাঞ্চলের বিভিন্ন আবাসস্থলে বাস করে। তারা যখন বাসা বাঁধতে শুরু করে তখন তাদের উচ্চ স্বরের ডাক প্রায়শই শোনা যায়।
বড় বড় চোখ হলদে বা হলুদাভ রঙের, যা গভীর রাতে শিকার করতে সাহায্য করে। এর পালক গাঢ় কালচে থেকে বাদামী রঙের হয়। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছদ্মবেশ নিতে সহায়ক হয়। গ্রেট হর্ন্ড পেঁচা শিকার করে নিশাচর প্রজাতি এ পাখিটি বিভিন্ন পরিবেশে পাওয়া যায়- অরণ্য, মরুভূমি ও অর্ধশুষ্ক এলাকা। তারা যখন বাসা বাঁধতে শুরু করে তখন তাদের গভীর ডাক প্রায়শই শোনা যায়।
Barred owl (Strix varia)
ব্যারেড পেঁচা (Barred Owl) উত্তর পূর্ব আমেরিকার আদিবাসী। কিন্তু তাদের পরিসর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিম, ক্যালিফোর্নিয়া এবং কানাডার কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত। প্রাপ্তবয়স্ক পেঁচা লম্বায় প্রায় ১৮-২০ ইঞ্চি, ওজন গড়ে প্রায় ৬৩০ থেকে ৮০০ গ্রাম। স্ত্রী পেঁচা আকারে বড়।
দেহের পালক ধূসর-বাদামী, বুক ও মাথায় স্বতন্ত্র বাদামী ও সাদা দাগ এবং পেটে উল্লম্ব রেখা। চোখ বড়, গাঢ় বাদামী। মাথা বড় এবং গোলাকার, কানের গোড়া ছাড়াই।
প্রধানত বড় বড় গাছযুক্ত ঘন বনে এরা বাস করে। তবে তারা খোলা বনেও থাকে এবং কখনো কখনো বাক্সে বাসা বানায়। ব্যারেড পেঁচা নিশাচর- রাতের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি ও ব্যাঙ শিকার করে।
The great blue heron
বৃহৎ নীল সারস (great blue heron) একটি লম্বা ঠ্যাংওয়ালা জলচর পাখি পাখি। এই রাজকীয় পাখিটি উত্তর ও মধ্য আমেরিকা জুড়ে দেখা যায়। এটি প্রায় ৪ ফুট লম্বা এবং এর ডানা প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত। এর নীল-ধূসর পালক আকর্ষণীয় এবং ধারালো ও সূক্ষ্ম ঠোঁট রয়েছে।
এটি জলাভূমি, হ্রদ এবং নদীতে বাস করে এবং মাছ, উভচর প্রাণী এবং ছোট জলজ প্রাণী শিকার করে। এর মনোমুগ্ধকর উড়ান এবং নীরবভাবে হাটার জন্য পরিচিত। বৃহৎ নীল সারস নুন্দ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
The Indian crane bird
ভারতীয় সারস পাখি (Antigone Antigone), বা সারস পাখি সবচেয়ে লম্বা এক উড়ন্ত পাখি। এদের উচ্চতা ৫ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এর পালক আকর্ষণীয় ধূসর, মাথা এবং ঘাড়ের উপরের অংশ উজ্জ্বল লাল। জলাভূমি, নদীর তীর এবং ধানক্ষেতে এদেরকে দেথতে পাওয়া যায়।
সারস একটি সর্বভুক পাখি। তাদের খাদ্যাভ্যাস বৈচিত্র্যময় যা ঋতু এবং খাদ্যের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। তারা তাদের লম্বা ঠোঁট ব্যবহার করে অগভীর জল, কাদা এবং মাটিতে খাদ্য অনুসন্ধান করে।
পর্যায়ে থাকে, যখন প্রচুর পরিমাণে জল এবং খাদ্য থাকে। তারা দীর্ঘস্থায়ী, একগামী জোড়া বন্ধন তৈরির জন্য বিখ্যাত। এরা সাধারনত বর্ষাকালে বাসা বানায়। স্ত্রী পাখি দুটো ডিম পাড়ে; আর দুজনে মিলে ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায়।
সারস পাখি পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে সারস দীর্ঘায়ু এবং বিশ্বস্ততার প্রতীক। বাসস্থান হ্রাসের কারণে এদরে সংখ্যা জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। তাই এদেরকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
Black-chinned fruit dove
কালো থুতনি ওয়ালা ফলের ঘুঘু কলম্বিডি পরিবারের একটি মাঝারি আকারের পাখি। পুরুষ পাখিটির পেট ও ডানা সবুজ, লেজ বাদামী, সাদা ধূসর মাথা এবং ঘাড় বেগুনি রঙের। লাল আইরিস এবং হলুদ ঠোঁটের নীচে একটি ছোট কালো দাগযুক্ত একটি রঙিন পাখি। স্ত্রী পাখির মাথা, ঘাড় এবং বুক সবুজ। এরা তাইওয়ান ও ফিলিপিন্সের অরণ্যে থাকে, ফল খায়। স্ত্রী পাখি একটি মাত্র সাদা ডিম পাড়ে।
Violet turaco
বেগুনি তুরাকো পাখিকে ভায়োলেসিয়াস প্ল্যান্টেন ইটার নামেও ডাকা হয়। হলুদ কপাল, বাদামী মুকুট এবং সাদা কানের আচ্ছাদন ছাড়া পালকটি চকচকে বেগুনি; ঠোঁট ঘন এবং লাল। উড়ন্ত অবস্থায়, বেগুনি তুরাকোর মূল পালকের রঙের সাথে পালক বেগুনি পালক সহজেই চোখে পড়ে।
ডানার লাল রঙ তুরাকোর বৈশিষ্ট্য। এটি পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দা হলেও সেনেগাল থেকে নাইজেরিয়ায় দেখতে পাওয়া যায়। চাদ এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে এদের বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী রয়েছে। এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় সাভানা, জলাভূমি, বনভূমি এবং বনে পাওয়া যায়। মূলত ফল হলো এদের খাবার, বিশেষত; ডুমুর। তবে তারা পাতা, কুঁড়ি, ফুল, পোকামাকড়, শামুক এবং স্লাগও খায়।
Bald eagle
Bald eagle বা টাক ঈগল একটি শক্তিশালী শিকারী পাখি, যা মূলত উত্তর আমেরিকায় দেখতে পাওয়া যায়। গাঢ় বাদামী শরীরের সাথে তুলনায় এটি তার সাদা মাথা এবং লেজের জন্য পরিচিত। শক্তিশালী ডানা, ধারালো নখ এবং চমৎকার দৃষ্টিশক্তির কারণে এটি একটি বিশেষজ্ঞ শিকারী পাখি। এরা হ্রদ এবং নদী থেকে মাছ ধরে।
টাক ঈগল গাছে উঁচুতে বড় বাসা তৈরি করে এবং প্রায়শই প্রতি বছর একই জায়গায় ফিরে আসে। একবার বিপন্ন হওয়ার পরে, সংরক্ষণ প্রচেষ্টার কারণে তাদের সংখ্যা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় প্রতীক- শক্তি এবং স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্ব করে।
Roadrunner
রোডরানার একটি দ্রুতগামী, মাটিতে বাসকারী পাখি। এরা যারা দক্ষিণ-পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর মরুভূমি এবং শুষ্ক অঞ্চলে বাস করে। লম্বা পা, মাথা এবং ডোরাকাটা বাদামী পালকের জন্য পরিচিত। এটি প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২০ মাইল বেগে ছুটে যেতে পারে।
রোডরানাররা পোকামাকড়, ছোট সরীসৃপ এমনকি ছোট সাপও খায়। দ্রুত প্রতিফলন ব্যবহার করে শিকার ধরতে পারে। ঝোপঝাড় বা নিচু গাছে বাসা তৈরি করে এবং দিনের ঠান্ডা সময়ে সক্রিয় থাকে। গতি, তৎরতা এবং চতুর আচরণের জন্য তারা মরুভূমির আইকনিক পাখিদের মধ্যে একটি।
Cuban kite
কিউবার চিল হলো একটি রাজকীয় পাখি। এই প্রজাতির নাম কনড্রোহিয়েরাক্স নাম গ্রীক শব্দ থেকে এসেছে-যার অর্থ "কারটিলেজ বাজপাখি"। এটি তার আকর্ষণীয় চেহারার জন্য পরিচিত। কিউবার সংস্কৃতিতে চিল পাখি স্বাধীনতা এবং স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক।
পাখিটিকে প্রায়শই আকাশের উঁচুতে উড়তে দেখা যায়। এটি মরা প্রাণী খেয়ে পরিবেশ নির্মল রাখতে সাহায্য করে এবং শিকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর রাজকীয় উড্ডয়ন এবং বিশেষ আকৃতি স্থানীয় কিংবদন্তি এবং সুন্দর গল্পের জন্ম দিয়েছে।
কিউবার চিল পাখি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শক্তি এবং কিউবার পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে এমন প্রাণবন্ত বন্যপ্রাণীর প্রতীক হিসেবে লালিত।
Black Honey buzzard
ব্ল্যাক হানি বাজার্ড এর আরেক নাম ফিলিপাইন হানি বাজার্ড। এটি একটি মাঝারি আকারের র্যাপ্টার যা মূলত ফিলিপাইনের বনে পাওয়া যায়। এর পালক গাঢ়, ঘাড় সরু এবং মাথায় সামান্য চূড়া আছে।
এরা অন্যান্য র্যাপ্টার পাখির মতো নয়। খাবার হিসেবে এদের পছন্দ হলো এটি মৌমাছি, বোলতা এবং তাদের লার্ভা। এর শক্ত পালক এবং চটপটে উড়ান ব্যবহার করে নিরাপদে বাসা আক্রমণ করে। পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
অন্যান্য শিকারী পাখির মতো এদেরকে নিয়ে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হয়নি; তবে আবাসস্থল হ্রাস এবং বনভূমি হ্রাস এদের টিকে থাকার জন্য হুমকি তৈরি করছে। সংরক্ষণ প্রচেষ্টা না নিলে এক সময় হয়তো এই সুন্দর পাখিটি কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।
Lilac-breasted roller
লাইলাক-ব্রেস্টেড রোলার হলো আফ্রিকান পাখি। এরা সাব-সাহারান আফ্রিকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। এটি তার আকর্ষণীয় পালকের জন্য পরিচিত। পালকে প্রায় আটটি ভিন্ন ধরনের রঙ রয়েছে। পাখির গড় আকার প্রায় ৩৭ সেমি। এটি সাধারণত বাবলা অঞ্চলে বাস করে যেখানে বেশ ফাঁকা ফাঁকা দূরত্বে গাছ রয়েছে, ঢালু ঝোপঝাড় এবং নদীর তীরবর্তীেএলাকা।
এদের খাবকার হলো ঘাসফড়িং, বিটল্স, মাঝে মাঝে টিকটিকি, কাঁকড়া এবং ছোট উভচর প্রাণী। গাছের গর্তে বা উইপোকার ডিবিতে বাসা তৈরি করে। তবে কাঠঠোকরা বা মাছরাঙার বাসাও জোর করে দখল করে। তারা ২-৪টি সাদা ডিম পাড়ে, মা-বাবা পাখি মিলে ডিমে তা দিয়ে ২২-২৪ দিনে ডিম ফোটায়। ১৯ দিনে ছানাগুলি সম্পূর্ণ পালকযুক্ত এবং ধূসর বাদামী রঙের হয়।
King Penguin
রাজ পেঙ্গুইন (King Penguin) হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঙ্গুইন প্রজাতি। সাব-অ্যান্টার্কটিকার ঠান্ডা বাতাসযুক্ত উপকূলে এরা বসবাস করে। মাথায় এবং বুকে আকর্ষণীয় কমলা রঙের ছোপ রয়েছে। আর এর জন্যই এরা একটি রাজকীয় চেহারার অধিকারি হয়। রাজ পেঙ্গুইনরা চমৎকার সাঁতারু, মাছ এবং স্কুইড শিকারের জন্য গভীর জলে ডুব দেয়।
বৃহৎ ও কোলাহলপূর্ণ কলোনিতে এরা প্রজনন করে। বাবা ও মা পেঙ্গুইন পালাক্রমে তাদের একমাত্র ছানার যত্ন নেয়। এরা তাদের ডিম তাদের পায়ের উপর উষ্ণ চামড়ার ভাঁজের নিচে ফোটায়। লম্বা সময় ধরে ছানার লালন-পালন করতে হয় বিধায় তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল; বিশেষত খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং প্রজনন সাফল্য প্রভাবিত হয়।
Frigatebird
ফ্রিগেটবার্ড হলো একটি চিত্তাকর্ষক সামুদ্রিক পাখি। এদের ডানা লম্বা, লেজ দুভাগে বিভক্ত এবং দিনের পর দিন উঁচুতে থাকার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য পরিচিত। গ্রীষ্মমন্ডলীয় মহাসাগর জুড়ে এদেরকে দেখা যায়। এরা জলে নামে না কারণ তাদের পালক জলরোধী নয়। বরং উষ্ণ বায়ুপ্রবাহের সাথে তাল মিলিয়ে উড়তে থাকে এবং মাছের সন্ধান করে বা অন্য সামুদ্রিক পাখির শিকার করা মাছ ছিনিয়ে নেয়।
পুরুষ ফ্রিগেটবার্ডদের গলায় একটি লাল থলে আছে। যৌন সঙ্গীকে পটানোর জন্য তা বেলুনের মতো ফুলিয়ে তোলে। এই চটপটে উড়ন্ত পাখিরা দ্বীপের উপকূলীয় উপনিবেশগুলিতে বাসা বাঁধে। তারা মাত্র একটি ছানা লালন-পালন করে। বড্ড বেরসিক বাপ-মা! তাদের ব্যতিক্রমী উড্ডয়নের দক্ষতা তাদেরকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের সবচেয়ে আইকনিক পাখিদের মধ্যে একটি হিসাবে গন্য করাতে বাধ্য করে।
Swallow-tailed kite
সোয়ালো-টেইলড চিল একটি আকর্ষণীয় র্যাপ্টর। এরা তাদের কালো-সাদা পালক এবং গভীর কাঁটাযুক্ত লেজের দ্বারা পরিচিত। প্রধানত দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে পাওয়া যায়। এই পাখি বন এবং জলাভূমিতে সুন্দরভাবে উড়ে বেড়ায়।
এর লম্বা ডানা এবং লেজের ক্ষিপ্ততা এদেরকে অনায়াসে উড়তে সাহায্য করে এবং মাঝ আকাশে পোকামাকড় ও অন্যান্য ছোট প্রাণীদের ধরে খায়। এই প্রজাতিটি খুব কমই ডানা ঝাপটায়। বরং মসৃণ, গ্লাইডিং ওড়ার উপর নির্ভর করে। সোয়ালো-টেইলড চিল লম্বা গাছের উঁচুতে বাসা বাঁধে। তবে তা প্রায়শই জলাশয়ের কাছে। তাদের দৃষ্টিনন্দন অ্যাক্রোবেটিক নড়াচড়ার জন্য সুপরিচিত।
Crested Pigeon
চূড়াযুক্ত কবুতর (Crested Pigeon) ব্রোঞ্জউইং (Bronzewing) পরিবারের সদস্য। এদের ডানার পালকে ইন্দ্রজালিক ছোপ থাকে। সূর্যের আলো যখন তাদের উপর পড়ে তখন এবং প্রজনন সমযয়ে ইন্দ্রজালিকতা সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়।
Hoopoe Bird
হুপো একটি বৈশিষ্টমন্ডিত পাখি যা তার আকর্ষণীয় কমলা রঙের মুকুটের জন্য পরিচিত। মুকুটের ডগা কালো এবং এটি তারা পাখার মতো উঁচু করতে পারে। এর পালক বাদামী ও ডানা হলো গাঢ় কালো-সাদা এর মিশ্রন। মাটি থেকে পোকামাকড় অনুসন্ধানের জন্য ব্যবহৃত হয় লম্বা এবং সরু ঠোঁটের। এর নরম "হু-পু" ডাকের কারণে এই প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে হুপো।
ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকা জুড়ে এদেরকে দেথতে পাওয়া যায়। হুপো পছন্দ করে খোলা মাঠ, বাগান এবং তৃণভূমি। হুপো তার অনন্য চেহারা, মনোমুগ্ধকর উড়ান দিয়ে আমাদেরকে মুগ্ধ করে। পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ সংরক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Great Crested Grebe
বড় চূড়াযুক্ত গ্রেবি একটি মার্জিত জলচরপাখি। তারা মনোমুগ্ধকর আকৃতি এবং আকর্ষণীয় প্রজননকারী পালকের জন্য পরিচিত। এদের যার মাথার ঝুঁটি অলংকৃত এবং বাদামী গালের টাফ্ট রয়েছে। ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার কিছু অংশের হ্রদ, জলাভূমি এবং ধীর গতিতে চলমান নদী জুড়ে এদেরকে দেখতে পাওয়া যায়।
এই পাখিগুলো চমৎকার ডুবুরি এবং প্রধানত মাছ খায়। এই প্রজাতির পাখির প্রজননককালের প্রেমের নৃত্য খুবই মনোমুদ্ধকর। এক জোড়া পাখি একে অপরের গতিবিধি লক্ষ্য রেখে সমতালে নৃত্য করে । বড় চূড়াযুক্ত গ্রেবিগুলি নলখাগড়ার মধ্যে ভাসমান বাসা তৈরি করে। তারা মনোযোগী পিতামাতা এবং প্রায়শই সুরক্ষার জন্য তাদের ডোরাকাটা ছানাগুলিকে পিঠে বহন করে।
Sultan Tit
সুলতান টিট এশীয় বন্য পাখি। দেহের উপরের অংশ কালো এবং নীচের অংশ হলুদ, কালচে ঠোঁট এবং হলুদ বা কালো মাথার ক্রেস্ট। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে প্রায় একই রকমের হলেও স্ত্রী পাখির দেহের উপরের অংশ সবুজ-কালো এবং গলার রং কিছুটা কম চকচকে।
Common Snipe
কমন স্নাইপ বা চ্যাগা হলো ছোট এক ধরনের জচৈর পাখি। উত্তর ইউরোপ এবং উত্তর এশিয়ার জলাভূমি, জলাভূমি, টুন্ড্রা এবং ভেজা তৃণভূমি হলো এদের প্রজননস্থল। প্রাপ্তবয়স্কদের দৈর্ঘ্য ৩০ সেমি, ডানার বিস্তার ৫০ সেমি এবং ওজন ১৫০ গ্রাম।
এদের ছোট সবুজ-ধূসর পা এবং খুব লম্বা এবং সোজা গাঢ় ঠোঁট। দেহ বাদামী রঙের, উপরে খড়ের মতো হলুদ ডোরা কাটা এবং নীচে ফ্যাকাশে। এদের চোখের উপর একটি গাঢ় ডোরা থাকে এবং উপরে ও নীচে হালকা ডোরা থাকে।
Gouldian Finch
গোল্ডিয়ান ফিঞ্চ (Erythrura gouldiae) বা রেইনবো ফিঞ্চ উত্তর অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা। এদের মাথার তিনটি স্বতন্ত্র বৈচিত্র্য রয়েছে: লাল, কালো এবং হলুদ। গোল্ডিয়ান ফিঞ্চগুলি ছোট আকারের- দৈর্ঘ্যে ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি। আছে একটি ছোট কৌনিক ঠোঁট, বীজ সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করে, বিশেষ করে প্রজনন ঋতুতে। তারা পোকামাকড়ও খায় বাচ্চাদের লালন-পালনের সময়।
উপসংহার
বিভিন্ন রঙিন পাখি প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি। তাদের সুন্দর পালক, গানের ধ্বনি ও দৃষ্টিনন্দন রঙ আমাদের মনকে মুগ্ধ করে। পাখিগুলি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।
তাদের রঙিন উপস্থিতি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রকৃতি অসাধারণ এবং তাদেরকে রক্ষা করতে যত্নের প্রয়োজন। তাই আমাদের সবাইকে পাখির প্রতি শ্রদ্ধা ও যত্নশীল হওয়া উচিত। তাদের সুরক্ষায় সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।
পাখিরা আমাদের জীবনের অংশ। তাদেরকে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। প্রকৃতি রঙিন ও সুন্দর থাকুক, এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।