অনেক অনেক বছর আগে, শহর বা স্কুলেরও অনেক আগে গ্রেট ক্রিসেন্ট নদীর বিপরীত দিকে দুটি গোষ্ঠী বাস করতো।
নদীপথে ভ্রমণকারীরা মাছ এবং জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ পছন্দ করতো।
রেডস্টোন গোষ্ঠী চকচকে লাল পাথর থেকে খোদাই করা সরঞ্জাম পছন্দ করতো।
কিন্তু... তারা কখনও একে অপরের সাথে কথা বলতো না।
কী দেখছি আমরা?
একটা প্রশস্থ নদী বয়ে চলছে। বাম দিকে মানুষ ক্যানোতে মাছ ধরছে। আর ডান দিকের মানুষ লাল পাথর খোদাই করছে। উভয় পক্ষই কৌতূহলী কিন্তু দূরে অবস্থান করছে।
মহা খরা
এক বছর রোদ খুব বেশি ছিল, কোন বৃষ্টি নেই।
নদীর পানি শুকিয়ে নদীটি সরু হয়ে গেল।
গাছ, লতা-পাতা শুকিয়ে গেল।
খাবার নেই।
কী দেখছি আমরা?
উভয় মানব গোষ্ঠীকে একই শুকিয়ে যাওয়া নদীর কাছাকাছি চলে যেতে হয়েছিল।
ঝুলে পড়া গাছ, ফাটল ধরা মাটি; আর প্রায় পানি শূণ্য একটি নদী। উভয় পরিবারে সদস্যরা তৃষ্ণার্ত এবং চিন্তিত।
অরু আর কণার সাক্ষাৎ
সেই বনে অরু নামে নদীপথযাত্রীর এক ছেলে খওয়ার জন্য গাছের শিকড় খুঁজছিল।
কণা নামের এক রেডস্টোন গোত্রের মেয়ে পাথর খুঁজছিল।
তারা বনের ভিতর ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একে অপরের সাথে ধাক্কা খেলো!
কী দেখছি আমরা?
অরু একটি ছোট ব্যাগ ধরে আছে; আর কণা একটি অর্ধ-সমাপ্ত হাতিয়ার ধরে আছে। একটি বড় গাছের নীচে দুজনেই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে একে অপরের দিকে।
ভয়ঙ্কর মুহূর্ত
অরু ভয়ে জমে গেছে। কণার অবস্থাও একই।
কেউই বুঝতে পারলো না তারা কি করবে!
তারা একে অপরের সম্পর্কে ভয়ঙ্কর সব গল্প শুনেছিল।
অরু অনুভব করল তার হৃদয় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে উঠছে।
কী দেখছি আমরা?
দুটি শিশুই ভীত সন্ত্রস্ত। তারা স্থির হয়ে আছে। তাদের উপর গাছের পাতাগুলো আস্তে আস্তে পড়ছে।
প্রথম উপহার
অরু কোন রকমের যুদ্ধ করতে চাইছিলো না।
তাই সে তার ব্যাগে হাত দিয়ে ছোট কিছু একটা বের করলো...
একটা মসৃণ পাথর যা সে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় খোদাই করেছিল।
এই নাও,” সে ফিসফিসিয়ে বলল। “কোন ক্ষতি নেই।”
আমরা কী দেখছি?
অরু একটা সুন্দর খোদাই করা পাথর বের করছে। কণা অবাক হয়ে চোখ টিপে তার হাতিয়ার নামিয়ে দিল।
কণার উপহার
পরের দিন কানা ফিরে এলো।
তার হাতে পাতায় মোড়ানো কিছু লোকানু ছিল।
"তোমার জন্য উপহার," সে বলল।
ভেতরে ছিল একটি চকচকে লাল পাথরের হাতিয়ার, যা সে নিজেই তৈরি করেছিল।
আমরা কী খেছি?
কণা অরুকে একটি ছোট লাল খোদাইয়ের হাতিয়ার দিল। অরু লাজুকভাবে হাসছে।
উপহার ও বন্ধুত্ব
প্রতিদিন অরু এবং কণা ডুমুর গাছের নীচে দেখা করতো।
তারা শাঁস, পুঁতি, পালক, খাবার ও পছন্দসই সরঞ্জাম নিয়ে আসতো।
তাদের গোত্রের লোকেরা তা লক্ষ্য করলো... এবং কৌতূহলী হয়ে উঠলো।
কী দেখছি আমরা?
অরু এবং কণা একসাথে বসে আছে। তাদের মাঝখানে রঙিন জিনিসপত্রের একটি ছোট স্তূপ।
একটি নতুন ধারনার জন্ম
উভয় গোত্রের লোকজন নদীর ধারে উপহার রেখে যেতে শুরু করলো।
ঝুড়ির জন্য একটি ব্রেসলেট।
বাদামের ব্যাগের জন্য একটি ধারালো হাতিয়ার।
শান্তিপূর্ণ দান জীবনযাপনের একটি নতুন উপায় হয়ে উঠলো।
কী দেখছি আমরা?
উভয় পক্ষের প্রাপ্তবয়স্করা হাসিমুখে নদীর তীরে সমতল পাথরের উপর জিনিসপত্র রাখছেন।
চাঁদের আগমনে সভা
প্রতি পূর্ণিমায় দুটি গোষ্ঠী নদীর ধারে মিলিত হতো জিনিসপত্র ভাগাভাগি করার জন্য -
খাবার, কারুশিল্প, গল্প, হাসি।
তারা একে চাঁদের সমাগম বলে ডাকতো।
কী দেখছি আমরা?
রাতের উৎসব: লণ্ঠন, শিশুরা নাচছে, খাবারের ঝুড়ি, মানুষ হাসিমুখে জিনিসপত্র বিনিময় করছে।
একটি নতুন প্রথার জন্ম
অরু কণার জন্য একটি বিশেষ পাথর খোদাই করেছিল।
এতে দুটি রেখা ছিল: একটি নদীর মতো ঢেউ খেলানো, অন্যটি লাল পাহাড়ের মতো সূক্ষ্ম।
একসাথে তারা একটি সুন্দর আকৃতি তৈরি করেছে।
কী দেখছি আমরা?
অরু কণাকে পাথরটি দিচ্ছে। এর উপর রেখাগুলি সুন্দরভাবে একসাথে ঘুরছে।
বহু বছর পরের ঘটনা
অরু এবং কণা বড় হয়েছে, কিন্তু তাদের ঐতিহ্য এখনও অটুট।
প্রতি বছর প্রথম দানের উৎসবে শিশুরা উপহার বিনিময় করে।
তারা জানতো না যে, এটি শুরু হয়েছিল একটি ডুমুর গাছের নীচে দুটি নার্ভাস বাচ্চার সাথে দেখা হওয়ার পর!
কী দেখছি আমরা?
বয়স্ক অরু এবং কণা আগুনের ধারে বসে বাচ্চাদের হাতে তৈরি ছোট ছোট উপহার বিনিময় করতে দেখছে।
আজকের বিশ্ব ও উপহার
এখনকার দিনে সব জায়গার মানুষ উপহার দেয়—
জন্মদিন, ছুটির দিন এবং বিশেষ দিনগুলিতে।
অরু এবং কণা তখন এটি জানত না...
কিন্তু তারা সুন্দর কিছু শুরু করেছিল।
কী দেখছি আমরা?
আধুনিক শিশুরা সুন্দর মোড়ানো প্যাকেটে উপহার এবং হস্তনির্মিত কারুশিল্প বিনিময় করছে, প্রাণখুলে হাসছে।
কী শিখলাম আমরা?
একটি উপহার শুধু মাত্র একটি বস্তুর চেয়েও অনেক বেশি কিছু।
এর অর্থ:
“আমি তোমার যত্ন করি।”
“আমি শান্তি চাই।”
“আমি তোমার বন্ধু হতে চাই।”
অনেক দিন আগের অরু এবং কণার মতো।
কী দেখছি আমরা?
দুটি ছোট বাচ্চা যখন খেলনা বা হাতে তৈরি কোন জিনিস বিনিময় করে তখন তাদের হৃদয় আলো ঝলমল হয়ে ওঠে।